RSS

ভারতে বিপ্লবী জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও উনিশশো পাঁচের বঙ্গভঙ্গ :: পর্ব ২

14 ডিসে.

চরমপন্থীদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য

বিপ্লবী জাতীয়তাবাদের উন্মেষ হল দুটি পথে। প্রথমটি, কংগ্রেসের অভ্যন্তরে চরমপন্থী গোষ্ঠী সংগঠনের মাধ্যমে; এবং দ্বিতীয়টি, চরমপন্থী বিপ্লবীদের কার্যকলাপের মাধ্যমে।

কংগ্রেসের মধ্যে যে চরমপন্থী দলটি তৈরি হল তার নেতৃত্ব দিলেন চার নেতা – লোকমান্য তিলক, বিপিনচন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ ও লালা লাজপৎ রায়। নতুন দলের জন্য নতুন মন্ত্র লিখলেন তিলক – “স্বরাজ আমার জন্মগত অধিকার এবং আমি তা অর্জন করবই।”

নরমপন্থী নেতাদের কাছে স্বরাজ ছিল সাম্রাজ্যের মধ্যে থেকে একটি ঔপনিবেশিক স্বায়ত্ত্বশাসন মাত্র। কিন্তু চরমপন্থীরা স্পষ্ট করে দিলেন, তাঁদের ঘোষিত ‘স্বরাজ’-এর অর্থ ‘বিদেশী শাসন থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি এবং বিদেশী হস্তক্ষেপ ছাড়া দেশের দেখভালের পূর্ণ স্বাধীনতা।” দুই গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য ও কার্যপদ্ধতি এইভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে গেল। চরমপন্থী ব্রিটিশ জাতি বা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের তথাকথিত বদান্যতায় বিশ্বাস রাখতেন না। নিছক অধিবেশনের রাজনীতিতেও তাঁদের ভরসা ছিল না। তাঁরা প্রত্যক্ষ বিরোধিতা, গণ-আন্দোলন ও আত্মত্যাগের কথা বলতে লাগলেন। তাঁদের কথায় ঝরে পড়তে লাগল স্বাধীনতা লাভের তীব্র আকাঙ্ক্ষার অভিপ্রায়। মানুষের মন থেকে তাঁরা উপড়ে ফেলতে চাইলেন সর্বশক্তিধর শাসকের ধারণাটি।

গণ-আন্দোলনের প্রবক্তা চরমপন্থী নেতাদের আন্দোলনের পদ্ধতিটিও ছিল অনেক বেশি প্রত্যক্ষ ও কার্যকর। তাঁরা বিদেশী দ্রব্য বয়কটের ডাক দিলেন, মানুষকে দেশজ দ্রব্য ব্যবহার করার পরামর্শ দিতে লাগলেন, প্রতিষ্ঠা করলেন জাতীয় শিক্ষাকেন্দ্র এবং পা বাড়ালেন প্রত্যক্ষ বিরোধিতার পথে।

ক্রমশ…

 

ট্যাগ সমুহঃ

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

 
%d bloggers like this: