RSS

Monthly Archives: ডিসেম্বর 2011

রাসমঞ্চ: বাংলার স্থাপত্যে মিশরের স্পর্শ

রাসমঞ্চ

বাইরের খিলান

কলকাতা ১৫২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মন্দির-শহর বিষ্ণুপুর। প্রাচীন মল্লভূম রাজ্যের রাজধানী। বর্তমানে বাঁকুড়া জেলার একটি মহকুমা শহর। এই শহরের খ্যাতি এর মন্দির-স্থাপত্য, শিল্পকলা ও সাংগীতিক ঐতিহ্যের জন্য। সপ্তদশ-অষ্টাদশ শতাব্দীতে এই শহরে গড়ে উঠেছিল একাধিক মাকড়া পাথর ও পোড়া ইঁটের মন্দির। মন্দিরগুলি মূলত বাংলা নবরত্ন, পঞ্চরত্ন বা চালা স্থাপত্যরীতির অনুসারী। কিন্তু মল্লরাজ বীরহাম্বীর ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে বিষ্ণুপুরে যে রাসমঞ্চটি নির্মাণ করেছিলেন, সেটি এক অভূতপূর্ব স্থাপত্যকলার নিদর্শন। এই মঞ্চটিতে বাংলার সনাতন মন্দিরস্থাপত্যের সঙ্গে মিশে যায় মিশরীয় পিরামিড ও ইসলামী স্থাপত্যশৈলী।

রাজা বীরহাম্বীর ছিলেন মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গিরের সমসাময়িক এবং মুঘল-পাঠান সংঘর্ষে মুঘল বাহিনীর অন্যতম সহায়ক। এই দুর্ধর্ষ মল্লযোদ্ধাই শ্রীনিবাস আচার্যের কাছে বৈষ্ণবধর্মে দীক্ষিত হন। ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে বীরহাম্বীর গড়ে তোলেন রাসমঞ্চ।

Read the rest of this entry »

 
3 টি মন্তব্য

Posted by চালু করুন ডিসেম্বর 29, 2011 in পুরনো লেখা

 

ট্যাগ সমুহঃ

ভগিনী নিবেদিতার ‘বুদ্ধ-যশোধরা’ :: পর্ব ১

তোমার এই ছেলে হয় বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নরপতি হবে, নতুবা মানুষের দুঃখে কাতর হয়ে সংসার ত্যাগ করবে এবং সম্প্রদায়ের গুরু হবে।

মূল রচনা: ভগিনী নিবেদিতা

অনেক দূরে ভারতের উত্তরে প্রাচীন রাজধানী কপিলাবস্তু। আজ থেকে পঁচিশ শতাব্দী আগে সেখানে একদিন শহর ও রাজপ্রাসাদ মুখরিত হল আনন্দ-কোলাহলে। জন্ম নিলেন শিশু রাজকুমার গৌতম। ভৃত্যেরা সংবাদ নিয়ে এল। চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী রাজা তাঁদের বহুমূল্য পুরস্কার দিয়ে পুরস্কৃত করলেন। অন্যান্য কাজ যারা করেছিল, সে যতই ছোটো কাজ হোক না কেন, তারা সবাই পুরস্কার পেল। তারপর রাজা এসে বসলেন অন্দরমহলে। একদল প্রাজ্ঞ ব্যক্তি তাঁদের তালপাতার পুথিপত্র আর আশ্চর্য সব যন্ত্রপাতি নিয়ে বসলেন গণনা করতে। রাজা উদ্বেগভরে অপেক্ষা করতে লাগলেন।

তাঁরা কী করছিলেন, জানো? সে এক ভারি মজার কাজ! তাঁরা ছোট্ট ছেলেটির জন্মনক্ষত্রের অবস্থান হিসেব করে তা থেকে তার ভবিষ্যৎ জীবনের কাহিনি পাঠ করছিলেন! শুনলে আশ্চর্য হবে, কিন্তু এই ছিল ভারতের সেকালের প্রথা। আজও লোকে এই প্রথা মেনে চলে। এই নক্ষত্র ধরে ভবিষ্যৎ জানাকে বলে মানুষের কোষ্ঠীবিচার। আমি এমন হিন্দুকেও চিনি যাঁর কাছে তাঁর তেরশো বছর আগেকার পূর্বপুরুষেরও কোষ্ঠী আছে!

Read the rest of this entry »

 
4 টি মন্তব্য

Posted by চালু করুন ডিসেম্বর 27, 2011 in পুরনো লেখা

 

ট্যাগ সমুহঃ

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন (১৮৫৭-১৯৪৭): একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস :: পর্ব ২

বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫)

 

১৮৯৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভারতের নতুন ভাইসরয় নিযুক্ত হলেন লর্ড কার্জন। ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর তিনি একটি রাজকীয় ঘোষণাবলে সুবৃহৎ বঙ্গপ্রদেশ দ্বিখণ্ডিত করলেন। গঠিত হল পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ। ব্রিটিশ সরকারের বক্তব্য ছিল, এর মাধ্যমে অনুন্নত পূর্ববঙ্গের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। কিন্তু বঙ্গভঙ্গের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল সেযুগের ভারতের সবচেয়ে অগ্রসর প্রদেশটিকে দ্বিখণ্ডিত করে ‘ডিভাইড ও রুল’ পদ্ধতিতে ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম রাখা। তাছাড়া হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টিও ছিল ব্রিটিশদের উদ্দেশ্য। তাই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করে।

 

স্বদেশি আন্দোলন (১৯০৫)

বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলন ধীরে ধীরে স্বদেশি আন্দোলনের রূপ ধারণ করল। বিংশ শতাব্দীর সূচনায় এই আন্দোলনের মাধ্যমেই জাতীয়তাবাদী স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রকৃত সূচনা।

Read the rest of this entry »

 

ট্যাগ সমুহঃ

অবসাদে ভুগতেন রবীন্দ্রনাথ, বলছে তাঁর নতুন জীবনী

শেষ অসুখের সময় কলকাতার পথে কবি

‘যদি কেউ কথা না কয়, ওরে ওরে ও অভাগা,/ যদি সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে সবাই করে ভয়–/ তবে পরান খুলে/ ও তুই মুখ ফুটে তোর মনের কথা একলা বলো রে।।’ – এই অমোঘ পংক্তি যাঁর লেখা সেই রবীন্দ্রনাথ ভুগতেন অবসাদে। এমনটাই দাবি করছে অধ্যাপক সব্যসাচী ভট্টাচার্যের লেখা কবির নতুন জীবনী ‘রবীন্দ্রনাথ টেগোর: অ্যান ইন্টারপ্রিটেশন’।

পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া থেকে প্রকাশিত এই বইটিতে দেখানো হয়েছে সদা-সংশয়াচ্ছন্ন আত্মসমালোচক রবীন্দ্রনাথ কিভাবে সারা জীবন তাঁর অন্তরলোকের বিক্ষোভ-আন্দোলন সামাল দিয়েছিলেন। ছেলেবেলা থেকেই তাঁর নিত্যসঙ্গী ছিল একাকীত্ব। জীবনস্মৃতিছেলেবেলা-য় আমরা পড়ি সেই দিনগুলির কথা। দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজকেও একবার তিনি লেখেন, “আমার ছেলেবেলার প্রধান বৈশিষ্ট্যই হল আমার একাকীত্ব।” বাবা দেবেন্দ্রনাথকে ছেলেবেলায় কাছে পাননি বললেই হয়। মায়ের মৃত্যুর পর একপ্রকার চাকরবাকরদের তত্ত্বাবধানেই বড়ো হয়েছিলেন তিনি; জীবনস্মৃতি-তে যাকে তিনি বলেছেন ‘ভৃত্যরাজক-তন্ত্র’। এমনকি যৌবনেও পূর্ববঙ্গে একা অনেক দিন কাটান রবীন্দ্রনাথ। এই সময় জনৈক বন্ধুকে কবি লেখেন, “অনেক সময় মাসের পর মাস একা থাকতাম। কথা বলারও লোক ছিল না। ব্যবহারের অভাবে সেই সময়েই আমার কণ্ঠ ক্ষীণ হয়ে এসেছিল।” এই একাকীত্ব রবীন্দ্রনাথের স্বাস্থ্যের উপর বিশেষ প্রভাব ফেলে। ১৯১৪-১৫ সাল নাগাদ অবসাদ-জনিত অসুস্থতা বেশ বেড়েছিল তাঁর। অ্যান্ড্রুজ এক জায়গায় লিখেছেন, “রামগড়ে আসার পর তাঁর মানসিক যন্ত্রণা মৃত্যু যন্ত্রণার তুল্য হয়েছিল। তিনি ভাবতে পারেননি যে তিনি এই যন্ত্রণা কাটিয়ে বেঁচে যাবেন।” ছয় বছর বাদে আর একবার তিনি অবসাদ-জনিত অসুস্থতায় পড়েন। এবার অবসাদের কারণ ছিল তাঁর শারীরিক অসুস্থতা।

Read the rest of this entry »

 

ট্যাগ সমুহঃ

শতবর্ষে জাতীয় সংগীত

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিশ্বের ১২১ কোটি মানুষের জাতীয় সংগীত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে’। ১৯১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে দুপুর বারোটার সময় ‘জনগণমন’ প্রথম গাওয়া হয়েছিল। যতদূর জানা যায়, রবীন্দ্রনাথের ভ্রাতুষ্পুত্র দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের (কবি যাঁকে বলতেন ‘আমার সকল গানের কাণ্ডারী’) তত্ত্বাবধানে ডাঃ নীলরতন সরকারের হ্যারিসন রোডের (অধুনা মহাত্মা গান্ধী রোড) বাড়িতে গানটির মহড়া হয়। অধিবেশনের দিন গানটি গাওয়া হয়েছিল সমবেত কণ্ঠে। ‘জনগণমন’ রচনার সঠিক দিনক্ষণ জানা যায় না। তাই প্রথম গাওয়ার তারিখটি ধরেই ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর পালিত হচ্ছে আমাদের জাতীয় সংগীতের শতবর্ষ।

অধ্যাপক অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য লিখেছেন, সম্ভবত ১৯১১-এর ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে কবি গানটি রচনা করেছিলেন। কিন্তু সেটা নিছকই অনুমানের কথা। ২৮ ডিসেম্বর ‘দ্য বেঙ্গলি’ পত্রিকায় গানটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। সেই সময় কোনো কোনো ইংরেজি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়, অধিবেশনে ‘রবীন্দ্রনাথের লেখা বন্দেমাতরম্’ ও ‘রাজা পঞ্চম জর্জের প্রশস্তিমূলক জনগণমন’ গাওয়া হয়। এই ভ্রান্ত সংবাদের প্রতিবাদস্বরূপ ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’র জানুয়ারি, ১৯১২ সংখ্যায় সম্পূর্ণ বাংলা গানটি প্রকাশ করেন রবীন্দ্রনাথ। অনেক বছর পরে ১৯৩৭ সালে পুলিনবিহারী সেনকে লেখা একটি চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ এই প্রসঙ্গে বিশদে লেখেন, “…সে বৎসর ভারতসম্রাটের আগমনের আয়োজন চলছিল। রাজসরকারে প্রতিষ্ঠাবান আমার কোনও বন্ধু সম্রাটের জয়গান রচনার জন্যে আমাকে বিশেষ করে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। শুনে বিস্মিত হয়েছিলুম, সেই বিস্ময়ের সঙ্গে মনে উত্তাপেরও সঞ্চার হয়েছিল। তারই প্রবল প্রতিক্রিয়ার ধাক্কায় আমি জনগণমন-অধিনায়ক গানে সেই ভারতভাগ্যবিধাতার জয় ঘোষণা করেছি, পতন-অভ্যুদয়-বন্ধুর পন্থায় যুগ-যুগ ধাবিত যাত্রীদের যিনি চিরসারথি, যিনি জনগণের অন্তর্যামী পথপরিচায়ক, সেই যুগযুগান্তরের মানবভাগ্যরথচালক যে পঞ্চম বা ষষ্ঠ কোনো জর্জই কোনক্রমেই হতে পারেন না সে কথা রাজভক্ত বন্ধুও অনুভব করেছিলেন।…” সবচেয়ে বড় কথা, গানের চতুর্থ স্তবকে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন,

ঘোরতিমিরঘন নিবিড় নিশীথে পীড়িত মূর্ছিত দেশে

জাগ্রত ছিল তব অবিচল মঙ্গল নতনয়নে অনিমেষে।

দুঃস্বপ্নে আতঙ্কে       রক্ষা করিলে অঙ্কে

স্নেহময়ী তুমি মাতা।

জনগণদুঃখত্রায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!

জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয় জয় হে।।

এই একটি পংক্তিই প্রমাণ করে দেয় রবীন্দ্রনাথের ভারত-ভাগ্যবিধাতা স্বয়ং ভারতমাতা ছাড়া আর কেউই নন। পঞ্চম জর্জ আর যাই হোন, ‘মাতা’ হবেন কিভাবে?!

Read the rest of this entry »

 

ট্যাগ সমুহঃ

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন (১৮৫৭-১৯৪৭): একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস :: পর্ব ১

স্বাধীনতার প্রথম যুদ্ধ

চলতি নাম সিপাহি বিদ্রোহ বা ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ। ঐতিহাসিকেরা বলেন, আমাদের স্বাধীনতার প্রথম যুদ্ধ। ভারতকে স্বাধীন করতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যতগুলি সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ আমরা গড়ে তুলেছিলাম, তার মধ্যে এই বিদ্রোহই ছিল সম্ভবত সবচেয়ে বর্ণময় ঘটনা। যদিও এই যুদ্ধ ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র অভ্যুত্থান নয়। এর আগে একাধিক বার একাধিক জায়গায় সংগঠিত বা অসংগঠিতভাবে নানা ছোটোখাটো কৃষক, আদিবাসী ও সেনাবিদ্রোহের ঘটনা ঘটেছিল। তার মধ্যে মিরাটের বিদ্রোহ ও তারপর দিল্লি দখলই প্রথম সারা উত্তর ভারতব্যাপী সিপাহি বিদ্রোহের আগুনে ঘৃতাহুতি দেয়। সময়টা ছিল ১৮৫৭ সালের গ্রীষ্ম। বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়ল পশ্চিম ও মধ্য ভারতেও। কেবলমাত্র দক্ষিণ ভারত বিদ্রোহের উত্তেজনা থেকে মুক্ত থাকে; পাঞ্জাব ও বাংলায় খুব সামান্য প্রভাবিত হয়। সেই সময় কোম্পানির ২,৩২,২২৪ জন দেশি সিপাহির অর্ধাংশই বিদ্রোহের পথে পা বাড়িয়েছিল। আপাতদৃষ্টিতে এই বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু এই যুদ্ধই প্রথম ভারতকে বিদেশি শাসনের কবলমুক্ত করার প্রেরণা দেয়। বিদ্রোহের একটি ইতিবাচক দিক ছিল দিল্লি দখল করে দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ‘শাহেনশাহ্-এ-হিন্দুস্তান’ বা ভারতসম্রাট ঘোষণা করা। এর মাধ্যমে বহুধাবিদীর্ণ ভারতকে পুনরায় একসূত্রে বাঁধার একটা প্রচেষ্টা দেখা যায়, পরবর্তীকালে ভারত যে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতিরাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, তার বীজ নিহিত ছিল এই প্রয়াসের মধ্যেই।

আসলে মহাবিদ্রোহ ছিল একশো বছরের কোম্পানি-শাসনের বিরুদ্ধে একটু একটু করে জমে ওঠা ক্ষোভের হঠাৎ-বিস্ফোরণ। কোম্পানির আর্থিক শোষণ, একচেটিয়া ভূমিরাজস্ব নীতি, আইন ও প্রশাসন ব্যবস্থা, ভারতীয়দের প্রতি শ্বেতাঙ্গদের ঘৃণা ও বর্ণবিদ্বেষ, নানা আছিলা ও প্রকারে একের পর এক দেশীয় রাজ্যগ্রাস ছিল এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের মূল কারণ। আর সিপাহিদের বিদ্রোহী হয়ে ওঠার কারণ ছিল সেনাবাহিনীতে তাদের দুরবস্থা। তার উপর এনফিল্ড রাইফেল প্রবর্তনের মাধ্যমে হিন্দু ও মুসলমানের ধর্মনাশ করার প্রচেষ্টার গুজব তাদের তাতিয়ে দেয়। তাতে ইন্ধন জোগায় খ্রিস্টান মিশনারিদের খ্রিস্টধর্ম প্রচারের কর্মসূচি।

Read the rest of this entry »

 
7 টি মন্তব্য

Posted by চালু করুন ডিসেম্বর 20, 2011 in পুরনো লেখা

 

ট্যাগ সমুহঃ

ভারতে বিপ্লবী জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও উনিশশো পাঁচের বঙ্গভঙ্গ :: পর্ব ৫

সুরাট অধিবেশন (১৯০৭)

 

বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলন চলাকালীনই কংগ্রেসের নরমপন্থী ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর মতাদর্শগত বিরোধ চরমে ওঠে। ১৯০৫ সালের বারাণসী অধিবেশনে গোপালকৃষ্ণ গোখেলের সভাপতিত্বে অল্পের জন্য কংগ্রেস বিভাজিত হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যায়। তাতে অবশ্য নরমপন্থী ও চরমপন্থীদের প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা ও মতবিরোধ থেমে থাকেনি। আগেই বলা হয়েছে, চরমপন্থীরা আন্দোলনকে বাংলার বাইরেও ছড়িয়ে দিতে এবং তাকে শুধুমাত্র বয়কটের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে সর্বতোমুখী বিরোধিতার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছিলেন। এসবের তীব্র বিরোধী ছিলেন নরমপন্থীরা। ১৯০৬ সালের কলকাতা অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের উপক্রম হয়। সেযাত্রা সর্বজনশ্রদ্ধেয় ভারতের ‘গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান’ দাদাভাই নওরোজিকে সভাপতি করে শেষরক্ষা করা হয়। নরমপন্থী ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে মতৈক্য ঘটানোর লক্ষ্যে দাদাভাই নওরোজি ঘোষণা করেন যে, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের লক্ষ্য ‘যুক্তরাজ্য বা তার উপনিবেশগুলিতে যেরকম স্বায়ত্বশাসিত সরকার বা স্বরাজ দেখা যায়, সেই রকম সরকারব্যবস্থা অর্জন’। সেই সঙ্গে কংগ্রেস স্বায়ত্ত্বশাসিত সরকার, বয়কট, স্বরাজ ও জাতীয় শিক্ষা সংক্রান্ত চারটি আপোষমূলক প্রস্তাবও গ্রহণ করে।

Read the rest of this entry »

 

ট্যাগ সমুহঃ