RSS

Monthly Archives: সেপ্টেম্বর 2011

দুর্গা

মূল রচনা: ডব্লিউ. জে. উইলকিনস (হিন্দু মিথোলজি: বৈদিক অ্যান্ড পৌরাণিক থেকে)

অনুবাদ: অর্ণব দত্ত

শিবজায়া এইবারে সম্পূর্ণ নতুন একটি রূপ ধারণ করলেন–এমন রূপ তিনি আগে কখনও ধরেননি। আগেও তিনি ছিলেন শিবের পত্নী; তবে তিনি আচরণ করতেন সাধারণ নারীর মতো; বলা যায়, তিনি ছিলেন নারীসুলভ গুণাবলির মূর্ত প্রতীক। দুর্গা রূপে তিনি হলেন এক সর্বশক্তিময়ী বীরাঙ্গনা। দেবতা ও মানুষের ত্রাস অসুরদের নির্মূল করতে পৃথিবীতে তিনি আবির্ভূতা হলেন নানা নামে।

দুর্গ নামে এক অসুরকে বধ করে দেবী দুর্গা নামে পরিচিতা হয়েছিলেন। ”স্কন্দপুরাণ”-এ এই ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়। ঋষি অগ্যস্ত একবার কার্তিকেয়কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, তাঁর মায়ের নাম দুর্গা কেন? কার্তিকেয় বললেন, “রুরু দৈত্যের পুত্র ছিল দুর্গ। ব্রহ্মার বরলাভের আশায় সে একবার কঠোর তপস্যা করেছিল। তারপর ব্রহ্মার পর পেয়ে সে হয়ে উঠেছিল দুর্জেয়। ত্রিভুবন জয় করে সে ইন্দ্রকে করল সিংহাসনচ্যুত। মুনিঋষিদের বাধ্য করতে লাগল তার জয় গাইতে। দেবতাদের সে পাঠিয়ে দিল বনে; শুধু তাই নয়, তাঁদের করে রাখল নিজের আজ্ঞাবহ। ধর্মানুষ্ঠান যা ছিল, সে সব সে নিষিদ্ধ করে দিল। তার ভয়ে ব্রাহ্মণরা বেদপাঠ ছেড়ে দিল; নদীর গতিপথ গেল ঘুরে; আগুন হারাল তার তেজ; সন্ত্রস্ত নক্ষত্ররাজি করল আত্মগোপন। দুর্গ মেঘের রূপ ধারণ করে যেখানে খুশি সেখানে বৃষ্টিপাত ঘটাতে লাগল। ভয় পেয়ে পৃথিবী মাত্রাতিরিক্ত শস্য উৎপাদন করতে লাগলেন; ঋতুচক্রের তোয়াক্কা না করেই গাছে ফুটতে লাগল ফলফুল।”

দুঃখী দেবগণ এলেন শিবের কাছে। দেবরাজ ইন্দ্র বললেন, “সে আমাকে সিংহাসনচ্যুত করেছে!” সূর্য বললেন, “সে আমার রাজ্য কেড়ে নিয়েছে!” শিবের দয়া হল। তিনি পার্বতীকে অনুরোধ করলেন গিয়ে দৈত্যটিকে বধ করে আসতে। পার্বতী সানন্দে রাজি হলেন। তিনি দেবতাদের শান্ত করে প্রথমে কালরাত্রিকে পাঠালেন। কালরাত্রি তাঁর রূপে ত্রিভুবনকে করলেন মোহিত; দৈত্যদের আদেশ করলেন পৃথিবীর পূর্বাবস্থা ফিরিয়ে দিতে। দুর্গ শুনে উঠল ক্ষেপে; কালরাত্রিকে ধরার জন্য পাঠাল সেনা। কিন্তু দেবী এক নিঃশ্বাসে তাদের ভষ্ম করে দিলেন। দুর্গ তখন ৩০,০০০ দৈত্য পাঠাল। এই দৈত্যরা আকারে এতই বড়ো ছিল যে পৃথিবীতল শুধু দৈত্যদেহেই ঢাকা পড়ে গেল। দৈত্যদের দেখে কালরাত্রি দুর্গার কাছে পালিয়ে এলেন। দুর্গ তখন ১০০,০০০,০০০ রথ, ১২০,০০০,০০০,০০০ হাতি, ১০,০০০,০০০ দ্রুতগামী ঘোড়া ও অসংখ্য সৈন্য নিয়ে চলল বিন্ধ্যপর্বতে পার্বতীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে। তাকে দেখেই পার্বতী সহস্রভুজা মূর্তি ধারণ করলেন। উপদেবতাদের নিয়ে গঠন করলেন নিজের বাহিনী। নিজের শরীর থেকে বহু অস্ত্র সৃষ্টি করলেন (পুরাণে সেসবের একটি দীর্ঘ তালিকা রয়েছে)। পার্বতী বিন্ধ্যপর্বতে উপবেশন করতেই দৈত্যরা তাঁকে লক্ষ্য করে তীর ছুঁড়তে লাগল। দৈত্যদের ছোঁড়া তীর ঝোড়ো বৃষ্টির ধারার মতো দেবীর দিকে ছুটে এল। শুধু তাই নয়, গাছ, পাথর যা কিছু পেল সবই উপড়ে দেবীর দিকে ছুঁড়ে দিল দৈত্যের দল। প্রত্যুত্তরে দেবী একটিমাত্র অস্ত্র ছুঁড়ে তাদের ছোঁড়া সবকিছু হটিয়ে দিলেন। দুর্গ তখন নিজে একটা আগুনের গোলা ছুঁড়ে দিল দেবীর দিকে। দেবী সেটি দূরে সরিয়ে দিলেন। তখন দুর্গ ছুঁড়ল আরও একটি আগুনের গোলা। দেবী একশো তীর ছুঁড়ে থামিয়ে দিলেন সেটি। দুর্গ তখন দেবীর বক্ষদেশ লক্ষ্য করে তীর ছুঁড়ল। দেবী সেটিও থামিয়ে দিলেন। তারপর থামিয়ে দিলেন দুর্গের ছোঁড়া গদা আর শূলও। তারপর দেবী ও দৈত্য পরস্পরের কাছাকাছি এসে পড়লেন। পার্বতী দুর্গকে ধরে তার বুকে নিজের বাঁ পা-টি চাপিয়ে দিলেন। তবে দুর্গ কোনো ক্রমে নিজেকে মুক্ত করতে সক্ষম হল। তারপর নতুন করে ঝাঁপিয়ে পড়ল যুদ্ধে।

Read the rest of this entry »

 

ট্যাগ সমুহঃ

ভগবতী-গীতা :: ৪র্থ ও ৫ম অধ্যায়

চতুর্থ অধ্যায়

হিমালয় বললেন,

হে দেবী, তোমাকে আশ্রয় না করলে যদি জীবের মুক্তি অসম্ভব হয়, তাহলে আমাকে বলে দাও, কিভাবে তোমাকে আশ্রয় করতে হবে।।১।।

মা, মুক্তিপিপাসুরা তোমার কোন রূপটি ধ্যান করবে? যদি দেহের বন্ধন থেকে মুক্তি পেতে হয়, তাহলে তোমার প্রতিই যে পরাভক্তি রাখতে হবে।।২।।

পার্বতী বললেন,

এক হাজার মানুষের মধ্যে এক জন যদি সিদ্ধিলাভ করতে ইচ্ছুক হয়, তাহলে এমন এক হাজার সিদ্ধিলাভে ইচ্ছুক মানুষের মধ্যে এক জনই মাত্র আমার স্বরূপ জানতে পারে।।৩।।

বাবা, মুক্তিপিপাসুরা দেহের বন্ধন থেকে মুক্তিলাভের জন্য আমাকে সূক্ষ্ম, বাক্যের অতীত, নিষ্কলুষ, নির্গুণ, পরম জ্যোতির স্বরূপ, সর্বব্যাপী, একমাত্র কারণ, নির্বিকল্প, নিরালম্ব ও সচ্চিদানন্দ রূপে কল্পনা করবে।।৪।।

Read the rest of this entry »

 

ট্যাগ সমুহঃ

বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসবের সভাপতি ছিলেন স্বয়ং নেতাজি সুভাষ

বাগবাজার সর্বজনীনের দুর্গাপ্রতিমা।

বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব ও মেলা কলকাতার দুর্গাপুজোর একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। উত্তর কলকাতার বাগবাজার অঞ্চলে গিরিশ পার্কের কাছে একটি বিশাল মাঠে এই পূজা ও মেলার আয়োজন করা হয়।

বাগবাজার সর্বজনীনের পুজো কলকাতার সবচেয়ে পুরনো সর্বজনীন দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে একটি। ১৯১৯ সালে বাগবাজারের বাসিন্দারা প্রথম এই পুজোর আয়োজন করেছিলেন। প্রথম বার পুজো হয়েছিল নেবুবাগান লেন ও বাগবাজার স্ট্রিটের সংযোগস্থলে সরকার হাউসে। সেই সময় এই পুজোর নাম ছিল “নেবুবাগান বারোয়ারি দুর্গাপূজা”। তারপর তিন বছর সরকার হাউসেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল পুজো। ১৯২৪ সালে পুজো সরে আসে বাগবাজার স্ট্রিট ও পশুপতি বসু লেনের সংযোগস্থলে। তার পরের বছর পুজো হয় কাঁটাপুকুরে। ১৯২৬ সালে সমাজকর্মী নগেন্দ্রনাথ ঘোষাল ও আরও কয়েক জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ভার নেন এই পুজোর। তাঁদের প্রচেষ্টায় সুষ্ঠভাবে পুজো করার জন্য গড়ে ওঠে একটি সংগঠন। ১৯২৭ সালে পুজো হয় বাগবাজার কালীমন্দিরে। ১৯২৯ সালে প্রথম এই পুজো উপলক্ষ্যে মেলা বসে।

Read the rest of this entry »

 

ট্যাগ সমুহঃ

কালীঘাট মন্দিরের দুর্গাপূজা

কালীঘাট মন্দিরের প্রধান উৎসব আটটি–রক্ষাকালী পূজা, স্নানযাত্রা, জন্মাষ্টমী, মনসাপূজা, শীতলাপূজা, চড়ক-গাজন ও রামনবমী। এছাড়া কালীপূজার রাতে হয় শ্যামা লক্ষ্মীপূজা। দুর্গাপূজার সময় মন্দিরে অধিষ্ঠিতা কালীকেই চামুণ্ডা দুর্গারূপে পূজা করা হয়। পূজা হয় কালিকাপুরাণ মতে। তবে এই পূজায় রয়েছে বিশেষ কয়েকটি আচারবিধিও। দুর্গাপূজার পাশাপাশি কালীর নিত্যপূজাও চলে।

 

দুর্গাপূজার কল্পারম্ভের বিধি রয়েছে সাতটি কল্পে–কৃষ্ণানবমী, প্রতিপদ, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, কেবল মহাষ্টমী ও কেবল মহানবমী। কালীঘাটে পূজা হয় সাতটি কল্পেই। কালীঘাট মন্দির চত্বরে যে মনসাতলা রয়েছে, সেখানেই একটি বেলগাছ পুঁতে তার তলায় হয় দেবীর বোধন। গঙ্গাস্নানের পর নবপত্রিকা প্রবেশ। সাধারণত দুর্গাপূজায় একটি নবপত্রিকা পূজা হলেও, কালীঘাট মন্দিরে দুটি নবপত্রিকা পূজা হয়। কালীমূর্তির ডানদিকে সেবায়েতদের কল্যাণে বসে একটি পত্রিকা; আবার বাঁদিকে সেবায়েতদের গুরুর পক্ষ থেকে বসে আর একটি পত্রিকা। কালীঘাট মন্দিরে কোনো পূজাতেই ঘটস্থাপন হয় না। কারণ, মা এখানে স্বয়ং বিরাজ করেন; তাই ঘটপ্রতীক এখানে নিষ্প্রয়োজন। অষ্টমী ও নবমী উভয় তিথিতেই কুমারীপূজা হয়। বলি হয় মহানবমীতে। মহানবমীর বলিতে কুচকুচে কালো রঙের ছাগল বলি দেওয়া হয়। এই দিন তিনটি বলি হয় একসঙ্গে। বলির সময় বাইরের কাউকে মন্দিরে থাকতে দেওয়া হয় না। মহানবমীর বলি দেখেন কেবল কালীই।

 

দুর্গাপূজার কয়েকদিন কালীঘাট মন্দিরে দেবীকে মহাভোগ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে চলে নিত্যভোগও (অর্থাৎ, রোজ যা দেওয়া হয়)। সকালবেলা মায়ের ঘুম ভাঙানোর পর দেওয়া হয় রাজভোগ। দুপুরের অন্নভোগে থাকে শুক্তো, পোলাও, মাছ, মাংস, নানারকম তরকারি, পায়েস। সন্ধ্যায় শীতলভোগে থাকে লুচি, মিষ্টি, রসগোল্লা। মাছের বিরিয়ানিও খান মা। নবমীর রাতে মা খান পান্তাভোগ। কারণ, পরদিন তিনি চলে যাবেন শ্বশুরবাড়ি; তাই মন সবার ভার থাকে, রান্নাঘরে হাঁড়ি চড়ে না।

 

দশমীর দিন মন্দিরে পুরুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এই দিন সধবারা মন্দিরে সিঁদুর খেলেন। তারপর সন্ধ্যা নামলে নবপত্রিকা বিসর্জন দিয়ে পূজার শেষ হয়।

 

(সুমন গুপ্তের কালীক্ষেত্র কালীঘাট বইতে পড়লাম এই সব বিবরণ; ভাবলাম শেয়ার করি।)

 

ট্যাগ সমুহঃ

অকালবোধন: দুর্গাপূজার কিছু অজানা কথা

ছেলেবেলায় বাবার সঙ্গে যেতুম খিদিরপুরের ভেনাস ক্লাবের ঠাকুর দেখতে। ওটা কলকাতা শহরের কোনো কেষ্ট-বিষ্টু পুজো নয়–কিন্তু আজও যাই সেই পুজো দেখতে। কারণ, কলকাতা শহরের এই একটি ক্লাবে গেলেই ফি বছর রামচন্দ্রের অকালবোধন চাক্ষুষ করার সুযোগ মেলে। মা দুর্গা সেখানে ‘সায়ূধবাহনা’ হলেও ‘সপরিবারা’ নন। তাঁর চারপাশে থাকেন লক্ষ্মণ, বিভীষণ, হনুমান–পদতলে অসুরের বদলে বসে থাকেন স্বচক্ষু উৎপাটনে উদ্যত রামচন্দ্র স্বয়ং।

দুর্গাপূজায় রামচন্দ্রের পূজার কোনো বিধান নেই। তাই সম্ভবত বাংলায় অকালবোধন থিমের আকাল। তবে অকালবোধনের গল্প বাঙালিরা শিশুকাল থেকে শুনে আসছে। সৌজন্যে কৃত্তিবাস ওঝা। পনেরো শতকের এই বাঙালি রামায়ণ অনুবাদক বেশ ফলাও করেই রামচন্দ্রের দুর্গাপুজোর গল্প শুনিয়েছেন। তবে গল্পটা সবিস্তারে খুব কম লোকই জানেন। তাই একবার বলে রাখা ভাল।

যুদ্ধে একে একে মারা পড়েছেন লঙ্কার সব বড়ো বড়ো বীর। রাবণ তখন একা কুম্ভের মতো রক্ষা করছেন লঙ্কাপুরী। তিনিও শ্রান্ত, বিধ্বস্ত। এমনকি একবার তো হনুমানের হাতে প্রচুর মার খেয়ে অজ্ঞানই হয়ে গেলেন। বেগতিক বুঝে রাবণ অম্বিকার স্তব করলেন:

আর কেহ নাহি মোর ভরসা সংসারে।

শঙ্কর ত্যজিল তেঁই ডাকি মা তোমারে।।

রাবণে কাতর স্তবে হৈমবতীর হৃদয় টলল। তিনি কালী রূপে রাবণকে কোলে তুলে নিয়ে তাঁকে দিলেন অভয়। এই খবর রামের কানে যেতেই তিনি গুণলেন প্রমাদ। দেবতাদের ঘুম উড়ে যাওয়ার জোগাড় হল। ইন্দ্র ব্রহ্মার কাছে গিয়ে কাকুতি-মিনতি করে একটা কিছু করার অনুরোধ জানালেন। বুড়ো ঠাকুরদাদা ব্রহ্মা এসে রামকে পরামর্শ দিলেন, “দুর্গাপূজা করো। আর কোনো উপায় নেই।” রাম বললেন, “তা কেমন করে হয়? দুর্গাপূজার প্রশস্ত সময় বসন্তকাল। শরৎকাল তো অকাল। তাছাড়া বিধান রয়েছে, অকালবোধনে নিদ্রা ভাঙাতে হবে কৃষ্ণানবমীতে। সুরথ রাজা প্রতিপদে পূজারম্ভ করেছিলেন। কিন্তু সেকাল তো আর নেই। পূজা করি কিভাবে?” ব্রহ্মা বললেন, “আমি ব্রহ্মা, বিধান দিচ্ছি, শুক্লাষষ্ঠীতে বোধন করো।” শুনে রাম মহাখুশি হলেন।

চণ্ডীপাঠ করি রাম করিল উৎসব।

গীত নাট করে জয় দেয় কপি সব।।

রাম চণ্ডীপাঠ করে উৎসব করলেন। সেই সুযোগে বাঁদরের দল খানিকটা নাচগান করে নিল (আহা, কৃত্তিবাস যেন আমাদের পাড়ার কথাই লিখেছেন গো!)।

সে কথা যাক, রামচন্দ্র কিভাবে দুর্গাপূজা করেছিলেন; তার একটু বর্ণনা দেবো। চণ্ডী-তে আছে, সুরথ রাজা দুর্গার মাটির মূর্তি গড়ে পূজা করেছিলেন (‘তৌ তস্মিন্ পুলিনে দেব্যাঃ কৃত্বা মূর্ত্তিং মহীময়ীম্।’ চণ্ডী, ১৩।১০)। রামচন্দ্রও পূজা করেছিলেন নিজের হাতে তৈরি মাটির প্রতিমায় (‘আপনি গড়িলা রাম প্রতিমা মৃন্ময়ী’)। ষষ্ঠীর সন্ধায় বেল গাছের তলায় হল দেবীর বোধন। অধিবাসের সময় রাম স্বহস্তে বাঁধলেন নবপত্রিকা।

সায়াহ্নকালেতে রাম করিল বোধন।

আমন্ত্রণ অভয়ার বিল্বাধিবাসন।। …

আচারেতে আরতি করিলা অধিবাস।

বান্ধিলা পত্রিকা নব বৃক্ষের বিলাস।।

Read the rest of this entry »

 
9 টি মন্তব্য

Posted by চালু করুন সেপ্টেম্বর 23, 2011 in পুরনো লেখা

 

ট্যাগ সমুহঃ

বাঙালির দুর্গাপূজা ঠিক কতটা প্রাচীন?

এই লেখাটি একাধিক ওয়েবসাইটে বেআইনিভাবে চুরি করা হয়েছে। একমাত্র এই ব্লগই লেখাটি প্রকাশের আইনত স্বত্বাধিকারী।

বাংলায় দুর্গোৎসবের প্রবর্তনা কে কবে করেছিল, সে সম্পর্কে কিছুই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। সাধারণভাবে মনে করা হয়, অধুনা বাংলাদেশের তাহেরপুরের রাজা কংসনারায়ণ নাকি প্রথম দুর্গাপূজা করেন। যদিও বাংলায় দুর্গোৎসবের ইতিহাস যে কংসনারায়ণের সময়কাল থেকে শুরু হয় না, তা প্রায় হলপ করেই বলা যায়। কংসনারায়ণ দুর্গোৎসব করেছিলেন ষোড়শ শতাব্দীর শেষলগ্নে কিংবা সপ্তদশ শতাব্দীর সূচনায়। কিন্তু তারও আগেকার সাহিত্যে ও অন্যান্য সূত্রে বাংলায় দুর্গাপূজার উল্লেখ পাওয়া যায়। খুব সম্ভবত, যে বিপুল ব্যয়ে কংসনারায়ণ দুর্গোৎসব করেন, তা-ই সেযুগের জনমানসে দুর্গাপূজার সংজ্ঞা দিয়েছিল বদলে। আর সেই থেকেই কংসনারায়ণী মিথের উৎপত্তি।

শরৎকালের দুর্গাপূজার একটি প্রাচীন গল্প প্রচলিত আছে হিউয়েন সাংকে নিয়ে। ৬৩০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ কোনো এক সময়ে শরৎকালে গঙ্গাপথে চলেছিলেন এই চীনা পর্যটক। পথে পড়লেন দস্যুর কবলে। দস্যুরা তাকে দেবী দুর্গার সামনে বলি দেওয়ার জন্য ধরে নিয়ে চলল। বলির আয়োজন সারা। এমন সময় খ্যাপা শ্রাবণ ছুটে এল আশ্বিনের আঙিনায়। লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল সব আয়োজন। দস্যুরা মাথা বাঁচাতে যে যেদিকে পারল দিল ছুট। সেই সুযোগে নিজেকে মুক্ত করে পালালেন হিউয়েন সাং।

এই গল্প সত্য কি মিথ্যা বলা যায় না। তবে একথা সত্যি যে দুর্গাপূজার ইতিহাস একেবারেই অর্বাচীন নয়। যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি বলেছেন, ‘দুর্গাপূজা বৈদিক যজ্ঞের রূপান্তর, তন্ত্র দ্বারা সমাচ্ছন্ন।’ তাঁর মতে, বৈদিক যুগে প্রত্যেক ঋতুর প্রারম্ভে যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হত। শরৎঋতুর আরম্ভেও হত। ‘এই শরৎকালীন যজ্ঞই রূপান্তরিত হইয়া দুর্গাপূজা হইয়াছে।’ তাঁর যুক্তি? তিনি বলেন, বৈদিক যজ্ঞ ও দুর্গাপূজার মধ্যে অনেক প্রভেদ রয়েছে। কিন্তু উভয়ের উদ্দেশ্য একই। বৈদিক যজ্ঞের উদ্দেশ্য, ধন-ধান্য-পুত্র, রোগমুক্তি ও শক্তিনাশের শক্তি প্রার্থনা। দুর্গার পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র বলে, ‘আয়ুরারোগ্যং বিজয়ং দেহি দেবি নমস্তুতে। রূপং দেহি যশো দেহি ভাগ্যং ভগবতি দেহি মে। পুত্রান দেহি ধনং দেহি সর্ব্বকামাংশ্চ দেহি মে।।’ (হে ভগবতী, আপনাকে প্রণাম করি, আপনি আমাকে রোগমুক্ত করুন, বিজয়ী করুন, যশ ও সৌভাগ্য প্রদান করুন, পুত্র ও ধন দিন এবং আমার সকল কামনা পূর্ণ করুন।) যোগেশচন্দ্র আরও দেখাচ্ছেন, দুর্গাপূজার মন্ত্রে ‘যজ্ঞ’ শব্দটির পরিব্যাপ্তি কতটা। বৈদিক হিন্দুধর্ম ছিল যজ্ঞসর্বস্ব। দুর্গাপূজাতেও দেখি, দেবীকে যজ্ঞভাগ গ্রহণে আহ্বান জানানো হচ্ছে (‘দেবি যজ্ঞভাগান্ গৃহাণ’) এবং পশুবলি দেওয়ার সময় বলা হচ্ছে, যজ্ঞের নিমিত্তই পশুর সৃষ্টি (‘যজ্ঞার্থে পশবঃ সৃষ্টাঃ তস্মিন্ যজ্ঞে বধোঽবধঃ’)। যোগেশচন্দ্রের তাই অনুমান, বৈদিক শারদ যজ্ঞই তন্ত্রের প্রভাবে পর্যবসিত হয়েছে আধুনিক দুর্গোৎসবে। হৃদয়ে যা জাগে, শরৎমেঘে তাই তো দেখা যায়।

Read the rest of this entry »

 
22 টি মন্তব্য

Posted by চালু করুন সেপ্টেম্বর 20, 2011 in পুরনো লেখা

 

ট্যাগ সমুহঃ

দেবীসূক্তম্

অহং রুদ্রেভিরিত্যষ্টর্চ্চস্য সূক্তস্য বাগম্ভৃণী ঋষিঃ সচ্চিদানন্দাত্মকঃ সর্ব্বগতঃ শ্রীআদিশক্তির্দেবতা ত্রিষ্টুপ্ছন্দো দ্বিতীয়া জগতী শ্রীজগদম্বাপ্রীত্যর্থে সপ্তশতীপাঠান্তে জপে বিনিয়োগঃ।

[ঋগ্বেদ, দশম মণ্ডল, দশম অনুবাক, ১২৫তম সূক্ত]

ওঁ অহং রুদ্রেভির্ব্বসুভিশ্চরাম্যহমাদিত্যৈরুত বিশ্বদেবৈঃ।

অহং মিত্রাবরুণোভা বিভর্ম্যহমিন্দ্রাগ্নী অহমশ্বিনোভা।।১।।

অহং সোমমাহনসং বিভর্ম্যহং ত্বষ্টারমুত পূষণং ভগম্।

অহং দধামি দ্রবিণং হবিষ্মতে সুপ্রাব্যে যজমানায় সুন্বতে।।২।।

অহং রাষ্ট্রী সংগমনী বসুনাঞ্চিকিতুষী প্রথমা যজ্ঞিয়ানাম।

তাং মা দেবা ব্যদধুঃ পুরুত্রা ভূরিস্থাত্রাং ভূর্য্যাবেশয়ন্তীম্।।৩।।

ময়া সো অন্নমত্তি যো বিপশ্যতি যঃ প্রাণিতি য ঈং শৃণোত্যুক্তম্।

অমন্তবো মান্ত উপক্ষীয়ন্তি শ্রুধি শ্রুত শ্রদ্ধিবন্তে বদামি।।৪।।

অহমেব স্বয়মিদং বদামি জুষ্টং দেবেভিরুত মানুষেভিঃ।

যং কাময়ে তং তমুগ্রং কৃণোমি তং ব্রহ্মাণং তমুষিং তং সুমেধাম্।।৫।।

অহং রুদ্রায় ধনুরাতনোমি ব্রহ্মদ্বিষে শরবে হন্তবা উ।

অহং জনায় সমদং কৃণোম্যহং দ্যাবাপৃথিবী আবিবেশ।।৬।।

অহং সুবে পিতারমস্য মূর্ধ্বন্মম যোনি রপ্‍স্বন্তঃ সমুদ্রে।

ততো বিতিষ্ঠে ভুবনানি বিশ্বোতামূন্দ্যাং বর্ষ্মণোপস্পৃশামি।।৭।।

অহমেব বাত ইব প্রবাম্যারভমাণা ভুবনানি বিশ্বা।

পরো দিবা পর এনা পৃথিব্যৈতাবতী মহিমা সম্বভূব।।৮।।

ওঁ তৎ সৎ ওঁ

ইতি ঋগ্বেদোক্তং দেবীসূক্তং সমাপ্তম্।

Read the rest of this entry »

 
১ টি মন্তব্য

Posted by চালু করুন সেপ্টেম্বর 20, 2011 in পুরনো লেখা

 

ট্যাগ সমুহঃ